একটা সময় ছিল যখন মায়ের কোলে শুয়ে ঘুমাতাম আর ঘুমানোর আগে একটা বায়না থাকতো আম্মু একটা গল্প শোনাও না,আম্মু শোনাতো গল্প, ভুত প্রেতের কোন গল্প নই, গল্প শোনাতো কোন মহা মনিষীর জীবণী, কোন শিক্ষণীয় গল্প, কোন ওলী আল্লাহের জীবণী। একটা গল্প হয়তো একদিনে শোনা হত না তার আগেই ঘুমিয়ে যেতাম মায়ের কোলে,আবার পরের দিন ঘুমানোর আগে আবার সেই বায়না ধরা আবার সেই গল্প বলা মায়ের, কোন গল্পই অসমাপ্ত থাকতো না,কেন শোনাতেন সেই সব গল্প আম্মু?? তিনি কি চাইতেন তার সন্তানের জীবণেও মণীষীদের জীবণধারার প্রতিফলন ঘটুক? কিন্তু কেন?? তিনিও তো পারতেন আর সবার মত জুজু বুড়ির ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে,তিনিও তো ভুতের গল্প শোনাতে পারতেন, আর সেটাই করাই হয়তো তার উচিত ছিল তাহলে আমি আজ আর সবার মত থাকতে পারতাম,সবার মত জুজু বুড়ির ভয়ে ঘুমিয়ে যেতাম,জুজু বুড়ি যা বলতো তাই বলতাম তার সুরে সুর মিলিয়ে, আমার লাখ লাখ মুসলিম ভাইয়ের উপর যখন হামলা হই তখন জুজু বুড়ির সুরে সুর মিলিয়ে বলতে পারতাম ওরে সব মুসলিম ই জংগী,যখন ফিলিস্তিনে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের উপর হামলা করা হয় তখন তাদের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে পারতাম তারা উগ্রবাদী, তাদের মত ছোট্ট শিশুদের কে বলতে পারতাম ওরা তো এক একটা জাত সাপ ওদের বাচতে দেওয়া যাবে না। যখন সমুদ্রতীরে ছোট্ট একটা ছোট বাচ্চার মৃত দেহ পড়ে থাকে তখন চুপ করে দেখতাম জুজু বুড়ির ভয়ে।
কিন্তু আমি পারছি না চুপ থাকতে কিংবা যারা বলছেন আমি নিরপেক্ষ তাদের সাথেও থাকতে পারছি না,আপনি নিরপেক্ষ নন আপনি কাপুরুষ। আপনি সত্য বলতে ভয় পান, আপনিও হুজুগে মাতাল,আপনিও জুজু বুড়ির ভয় পান। আমি পারছি না আপনাদের দলে সামিল হতে যাদের মতে
* মানুষ সে তো থাকে ইউরোপের দেশগুলোতে
বাদবাকি সব গরু ছাগল ভেড়া মহিষ
বিশ্ব মানবতা সে তো ইউরোপের দেশ গুলোর জন্য
আর কোথাও তো মানুষ ই নাই তাই বিশ্ব মানবতাও নাই*
আমার আম্মু আমাকে জুজু বুড়ির ভয় পাড়িয়ে ঘুম পাড়ান নাই, তাই আমি আপনাদের মত ঘুমিয়ে থাকি না,তিনি আমাকে শুনিয়েছেন সেই সব সংগ্রামী মানুষের কথা যারা জুগে জুগে জুজু বুড়িকে কতল করেছেন, তাই আমি জেগে রই, আমি চোখ মেলে রই,জুজু বুড়ির দিন শেষ হবে,বিশ্ব মানবতা মুক্তি পাবে।
বিশ্ব মানবতা, বিশ্ব শান্তির পতাকা একদিন উড়বেই সারা বিশ্বের আকাশে বাতাসে। (In sha Allah)