Tuesday, February 7, 2017

গতকাল আড়াই বছরের এক বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা করলাম "বাবু বড় হয়ে কি হবে?" সে উত্তর দিল " বড় হয়ে মানুষ হবো "। আমি চুপ হয়ে গেলাম।
আমরা সবাই বড় হয়ে বড় বড় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ব্যাবসায়ী ইত্যাদি ইত্যাদি হতে চাই কিন্তু কেউ মানুষ হতে চাই না। কারণ মানুষ হওয়া অনেক কঠিন।
সবাই মানুষ হয়ে উঠুক আর বদলে যাক সমাজ, বদলে যাক দেশ, বদলে যাক বিশ্ব।
প্রত্যেকের জীবনে "কেউ একজন" থাকে ... কারো কারো ভাগ্য হয় ঐ "কেউ একজন" এর সাথে সারা জীবন থাকার ... আর কারো কারো ভাগ্য হয় "অন্য কোন একজন" এর সাথে সারা জীবন থাকার !!
তবুও জীবন থেমে থাকে না ... আমি, তুমি, "কেউ একজন", "অন্য কোন একজন" সবাই চলতে থাকে ... যারা কেউ একজন কে পাই তারা সুখী হয় আর যারা কেউ একজন কে পাই না তারা দুঃখ লুকিয়ে বেচে থাকে।
এটাকেই আমরা বাস্তবতা বলি। বাস্তবতার থেকেও বড় কথা হল যারা সেই কেউ একজন কে নিয়ে সারা জীবণ থাকতে পারে তারা জয়ী আর যারা পারে না তারা পরাজিত। ইতিহাস কখনো পরাজিতদের পক্ষ হয়ে কথা বলে না। জয়ীরাই হল আসল হিরো। যারা পরাজিত তাদের আসলে কষ্টগুলো লুকিয়ে ফেলা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় থাকে না। ব্যাপারটা এমন নই যে পরাজিতরা মেন্টালি শক্ত কিংবা তারা যাদের হারিয়েছে তাদের ভাল থাকার জন্য নিজের ভালবাসা ত্যাগ করছে। এগুলো আসলে সান্তনা বাণী। আসল কথা হল যারা পরাজিত তাদের নিজেদের কষ্ট লুকানো ছাড়া আর কোন পথ নেই, চাই বা না চাই এই কষ্টকে লুকাতেই হবে। তাই এটাকে বাস্তবতার নামে নাম দিয়ে নিজের কষ্টকে লুকানোর ব্যার্থ চেষ্টা চালানো হয়। "বাস্তবতা" নামক কিছুকে কে মেনে নিতে হয়।
ইতিহাস জয়ীদের জয়গান করে, বাস্তবতা পরাজিতদের নিয়ে খেলা করে।
তোমার কাজল কালো চোখে
দিবানিশি রঙিন সপ্ন ভাসে
আমার রুক্ষ কালো ঠোঁটে
নিকোটিন আর তামাক পুড়ে
লক্ষ্য স্থির রাখুন, লক্ষ্যপানে এগিয়ে যান, কোন বাধা আপনাকে আটকাতে পারবেনা;
কোন সমস্যা আপনাকে আটকাতে পারবে না, আপনাকে কোন মানুষ আটকাতে পারবেনা,
যদি কেউ আপনাকে আটকাতে পারে, সে হল একমাত্র আপনি।
সুতরাং কোন অজুহাত নয়, লক্ষকে জীবনের সাথে বেধে নিন, আপনি জিতবেনই!
ব্যস্ত শহরের উঁচু বিল্ডিংটার কার্ণিশে
নিশ্চুপ নিস্তব্ধ রাত নেমে আসে
আমি রাত জাগা একা পাখি 
দুচোখ ভরে সপ্ন দেখি
সেই সপ্নে তোমার আসা যাওয়া 
আর আমার জন্য ভালবাসা
বাস্তবে যদি আসে সংঘাত
সরিয়ে নিয়োনা তোমার দুটি হাত
শক্ত করে জড়িয়ে তোমায় এই বুকে
সারাজীবন দেব পাড়ি জয়-পরাজয়ে
মাস্ক পরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন, আমরা একজন অন্যজন কে উপদেশ দেই মাস্ক পরে বাইরে বের হওয়ার জন্য যাতে দূষিত পরিবেশের ধূলাবালি ঢুকে শারিরীক কোন ব্যাধি না হয়, কিন্তু আমরা কাওকে বলি না এমন কিছু কর যাতে আমরা মাস্ক ছাড়া বুক ভরে শ্বাস নিতে পারি। আমরা স্বার্থপরের মত একদিক থেকে নিজেদের বাচানোর চেষ্টা করি অন্যদিক থেকে পরিবেশকে ধ্বংস করি।
যে দেশের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত, বাজে শিক্ষাব্যবস্থায় আবার যারা গ্রাজুয়েশন করেছে তাদের মধ্যে আবার ৮০ শতাংশই মুখস্ত বিদ্যার জোরে পাশ করেছেন যাদের নিজস্ব কোন চিন্তাশক্তি নাই, অপরের গেলানো মুখস্থ বিদ্যা, বুলি ই যাদের মাথার ভিতর ঢুকে আছে সর্বত্র সেদেশের উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের চর্চা অযৌক্তিক ছাড়া কিছু নই।

Wednesday, June 22, 2016

এক জোড়া কবুতরের গল্প

কবুতর পোষার নেশা ছিল একসময়। ছাদের চিলেকোঠার উপরে ছিল কবুতরের বাসা। অনেক কবুতরের মাঝে ধবধবে একজোড়া সাদা কবুতর ছিল সেখানে। যখন ই খেয়াল হত দেখতাম একসাথে বসে আছে বা খাচ্ছে তারা। পুরুষ কবুতরটি ছিল অন্যান্য কবুতর থেকে একদম আলাদা। সবসময় গলা উঁচু করে রাজার মত হেটে বেড়াতো। মেয়ে কবুতরটির পাশে অন্য কোন কবুতর ঘেঁষার চেষ্টা করলেই তাকে তাড়িয়ে দিত। মেয়ে কবুতরটিকে একদম আগলে রাখতো।  আমার সবথেকে পছন্দের কবুতর ছিল এ দুটি। প্রায় প্রতিদিন ই ছাদে উঠে ওদের কার্যকলাপ দেখতাম।
হঠাত একদিন ভোর হওয়ার আগ দিয়ে কবুতরের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে গেল। দ্রুত ছাদে চলে গেলাম। মনের ভেতর যে ভয়টা পাচ্ছিলাম সেটাই হল। কবুতরের ঘরের সামনে কবুতরের রক্তমাখা পালক পড়ে আছে।বনবিড়ালে হামলা চালিয়েছে। রাতে কবুতরের ঘরের দরজা আটকানোর কথা ছিল কিন্তু আম্মু ভুলে যাওয়ার কারণে এই দশা। সেই কবুতর জোড়ার খোপের সামনে দেখি মেয়ে কবুতরটি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং ছেলে কবুতরটি আহত। দেখে বুঝতে পারলাম ছেলে কবুতরটি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে তার সঙ্গীণীকে বাচানোর জন্য। বিধিবাম সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পারেনি তাকে বাঁচাতে। কয়েকদিন এর প্রাথমিক চিকিতসায় ছেলে কবুতরটি সুস্থ হয়ে উঠলো পুরোপুরি। কিন্তু একটা জিনিষ লক্ষ করলাম কবুতরটি কেমন যেন হয়ে গেছে, ঠিকমত খায় না,সব কবুতর থেকে দূরে একা বসে থাকে। হাটার মদ্ধ্যে সেই তেজী ভাব টা আ
র নাই। কেমন জেন অস্বাভাবিক। বাসার অনেকেই লক্ষ্য করলো ব্যপারটা। আম্মা আমাকে কিছু টাকা দিয়ে বাজার থেকে একটা নতুন মেয়ে কবুতর কিনে আনতে বললেন আমি তাই করলাম। এরপর মা নতুন কবুতর আর সেই কবুতরটিকে একটা খোপের মধ্যে ঢুকিয়ে আটকাই দিলেন। এরপর কাজের ব্যস্ততায় আর দেখা হয়নি কবুতরের কি অবস্থা। কয়েকদিন পর বিকালের দিকে ছাদে উঠছি হটাত কবুতর জোড়ার কথা খেয়াল হল।  চিলেকোঠার দিকে তাকিয়ে দেখি সেই ছেলে কবুতরটি আগের মত গলা উঁচু করে হেটে বেড়াচ্ছে তার নতুন সঙ্গীনীর পাশে এবং অন্যান্য কবুতর কে তার আশে পাশেও ভিড়তে দিচ্ছে না। হেসে ফেললাম আমি দেখে।

মানুষও এরকম। আজ আপনি হঠাত মারা যাবেন, কিছুদিন সবাই কাদবে, কষ্ট পাবে, একটা সময় আপনাকে ভুলে যাবে। কারণ যে মানুষটার অস্তিত্ব নেই তাকে নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। তাদের কে বাস্তব কিছু নিয়ে ভাবতে হবে।

আপনি আজ মারা যান আপনার সঙ্গীর জীবণ থেমে থাকবে না। কিছুদিন কষ্ট পাবে তারপর আবার নতুন করে জীবণ গোছাতে শুরু করবে অন্য কারো সাথে।

এর জন্য মানুষের কোন দোষ নাই। এটা প্রকৃতির নিয়ম। কোথাও একসময় পড়েছিলাম প্রকৃতি শুণ্য স্থান পছন্দ করে না। কোন না কোন ভাবে সে শূন্য স্থান কে পূরণ করে দেয়। প্রকৃতির রহস্য বোঝা বড়ই মুশকিল।