Tuesday, February 7, 2017

তোমার কাজল কালো চোখে
দিবানিশি রঙিন সপ্ন ভাসে
আমার রুক্ষ কালো ঠোঁটে
নিকোটিন আর তামাক পুড়ে
লক্ষ্য স্থির রাখুন, লক্ষ্যপানে এগিয়ে যান, কোন বাধা আপনাকে আটকাতে পারবেনা;
কোন সমস্যা আপনাকে আটকাতে পারবে না, আপনাকে কোন মানুষ আটকাতে পারবেনা,
যদি কেউ আপনাকে আটকাতে পারে, সে হল একমাত্র আপনি।
সুতরাং কোন অজুহাত নয়, লক্ষকে জীবনের সাথে বেধে নিন, আপনি জিতবেনই!
ব্যস্ত শহরের উঁচু বিল্ডিংটার কার্ণিশে
নিশ্চুপ নিস্তব্ধ রাত নেমে আসে
আমি রাত জাগা একা পাখি 
দুচোখ ভরে সপ্ন দেখি
সেই সপ্নে তোমার আসা যাওয়া 
আর আমার জন্য ভালবাসা
বাস্তবে যদি আসে সংঘাত
সরিয়ে নিয়োনা তোমার দুটি হাত
শক্ত করে জড়িয়ে তোমায় এই বুকে
সারাজীবন দেব পাড়ি জয়-পরাজয়ে
মাস্ক পরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন, আমরা একজন অন্যজন কে উপদেশ দেই মাস্ক পরে বাইরে বের হওয়ার জন্য যাতে দূষিত পরিবেশের ধূলাবালি ঢুকে শারিরীক কোন ব্যাধি না হয়, কিন্তু আমরা কাওকে বলি না এমন কিছু কর যাতে আমরা মাস্ক ছাড়া বুক ভরে শ্বাস নিতে পারি। আমরা স্বার্থপরের মত একদিক থেকে নিজেদের বাচানোর চেষ্টা করি অন্যদিক থেকে পরিবেশকে ধ্বংস করি।
যে দেশের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত, বাজে শিক্ষাব্যবস্থায় আবার যারা গ্রাজুয়েশন করেছে তাদের মধ্যে আবার ৮০ শতাংশই মুখস্ত বিদ্যার জোরে পাশ করেছেন যাদের নিজস্ব কোন চিন্তাশক্তি নাই, অপরের গেলানো মুখস্থ বিদ্যা, বুলি ই যাদের মাথার ভিতর ঢুকে আছে সর্বত্র সেদেশের উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্রের চর্চা অযৌক্তিক ছাড়া কিছু নই।

Wednesday, June 22, 2016

এক জোড়া কবুতরের গল্প

কবুতর পোষার নেশা ছিল একসময়। ছাদের চিলেকোঠার উপরে ছিল কবুতরের বাসা। অনেক কবুতরের মাঝে ধবধবে একজোড়া সাদা কবুতর ছিল সেখানে। যখন ই খেয়াল হত দেখতাম একসাথে বসে আছে বা খাচ্ছে তারা। পুরুষ কবুতরটি ছিল অন্যান্য কবুতর থেকে একদম আলাদা। সবসময় গলা উঁচু করে রাজার মত হেটে বেড়াতো। মেয়ে কবুতরটির পাশে অন্য কোন কবুতর ঘেঁষার চেষ্টা করলেই তাকে তাড়িয়ে দিত। মেয়ে কবুতরটিকে একদম আগলে রাখতো।  আমার সবথেকে পছন্দের কবুতর ছিল এ দুটি। প্রায় প্রতিদিন ই ছাদে উঠে ওদের কার্যকলাপ দেখতাম।
হঠাত একদিন ভোর হওয়ার আগ দিয়ে কবুতরের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে গেল। দ্রুত ছাদে চলে গেলাম। মনের ভেতর যে ভয়টা পাচ্ছিলাম সেটাই হল। কবুতরের ঘরের সামনে কবুতরের রক্তমাখা পালক পড়ে আছে।বনবিড়ালে হামলা চালিয়েছে। রাতে কবুতরের ঘরের দরজা আটকানোর কথা ছিল কিন্তু আম্মু ভুলে যাওয়ার কারণে এই দশা। সেই কবুতর জোড়ার খোপের সামনে দেখি মেয়ে কবুতরটি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং ছেলে কবুতরটি আহত। দেখে বুঝতে পারলাম ছেলে কবুতরটি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে তার সঙ্গীণীকে বাচানোর জন্য। বিধিবাম সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পারেনি তাকে বাঁচাতে। কয়েকদিন এর প্রাথমিক চিকিতসায় ছেলে কবুতরটি সুস্থ হয়ে উঠলো পুরোপুরি। কিন্তু একটা জিনিষ লক্ষ করলাম কবুতরটি কেমন যেন হয়ে গেছে, ঠিকমত খায় না,সব কবুতর থেকে দূরে একা বসে থাকে। হাটার মদ্ধ্যে সেই তেজী ভাব টা আ
র নাই। কেমন জেন অস্বাভাবিক। বাসার অনেকেই লক্ষ্য করলো ব্যপারটা। আম্মা আমাকে কিছু টাকা দিয়ে বাজার থেকে একটা নতুন মেয়ে কবুতর কিনে আনতে বললেন আমি তাই করলাম। এরপর মা নতুন কবুতর আর সেই কবুতরটিকে একটা খোপের মধ্যে ঢুকিয়ে আটকাই দিলেন। এরপর কাজের ব্যস্ততায় আর দেখা হয়নি কবুতরের কি অবস্থা। কয়েকদিন পর বিকালের দিকে ছাদে উঠছি হটাত কবুতর জোড়ার কথা খেয়াল হল।  চিলেকোঠার দিকে তাকিয়ে দেখি সেই ছেলে কবুতরটি আগের মত গলা উঁচু করে হেটে বেড়াচ্ছে তার নতুন সঙ্গীনীর পাশে এবং অন্যান্য কবুতর কে তার আশে পাশেও ভিড়তে দিচ্ছে না। হেসে ফেললাম আমি দেখে।

মানুষও এরকম। আজ আপনি হঠাত মারা যাবেন, কিছুদিন সবাই কাদবে, কষ্ট পাবে, একটা সময় আপনাকে ভুলে যাবে। কারণ যে মানুষটার অস্তিত্ব নেই তাকে নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। তাদের কে বাস্তব কিছু নিয়ে ভাবতে হবে।

আপনি আজ মারা যান আপনার সঙ্গীর জীবণ থেমে থাকবে না। কিছুদিন কষ্ট পাবে তারপর আবার নতুন করে জীবণ গোছাতে শুরু করবে অন্য কারো সাথে।

এর জন্য মানুষের কোন দোষ নাই। এটা প্রকৃতির নিয়ম। কোথাও একসময় পড়েছিলাম প্রকৃতি শুণ্য স্থান পছন্দ করে না। কোন না কোন ভাবে সে শূন্য স্থান কে পূরণ করে দেয়। প্রকৃতির রহস্য বোঝা বড়ই মুশকিল।

Tuesday, December 29, 2015

জীবণ মানে শূণ্য থেকে শুরু

আমি সেই ছেলেটিকে চিনতাম যে ভালবাসায় ব্যার্থ হয়ে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে বেচে যায়,একদিন সেই ছেলেটা খুব অনায়সেই অন্য একটা মেয়েকে বলে দিয়েছিল আমি তোমাকে ভালবাসি। সেই ছেলেটা অনেক দিন পর নতুন করে বাচতে শুরু করেছিল সেই মেয়েটির সাথে

আমি সেই মেয়েকে দেখেছিলাম যে সব সময় বলতো তুমি আমার না হলে আমি আর বাচবো না।ছেলেটি ছেড়ে যাওয়ার পর মেয়েটি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল তারপর অনেকদিন পর সেই মেয়েটাকে দেখেছিলাম মুখে হাসি কোলে বাচ্চা নিয়ে অন্য এক পুরুষের হাতে হাত রেখে ঘুরে বেড়াতে

এক সময় নেশায় বুদ হয়ে পড়ে থাকা একটি ছেলেকে দেখেছিলাম একদিন মুখে দাড়ি, টুপি পরে অন্য সবাইকে সঠিক পথে ফিরে আসার দাওয়াত দিতে।

আমি সেই ছেলেকে চিনতাম যাকে সবসময় বলা হত ছেলেটি গোল্লায় যাচ্ছে,মাথায় উষ্কখুষ্ক চুল মুখভর্তি দাড়ি,কাধে গিটার নিয়ে হেটে যাওয়া সেই ছেলেটিকে দেখেছিলাম একদিন স্যুট টাই পরে গিটার ফেলে হাতে ফাইল নিয়ে অফিসে যেতে

জীবণটা খুব বিচিত্র রকমের। অদ্ভুতভাবে বদলে যায় সব কিংবা জীবণের তাগিদে বদলে নিতে হয় সব কিছু, জীবণে সুখী থাকাটার অনেক প্রয়োজন যেকোন ভাবেই হোক না কেন

আপনিও কি নিজেকে খুব অসহায় ভাবছেন তাদের মত? হতাশায় জর্জরিত হয়ে নিজেকে শেষ করার কথা ভাবছেন? আপনার কাছের মানুষটি আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে?কি ভাবছেন সব কিছু শেষ হয়ে গেছে?? হঠাত করেই সিদ্ধান্ত নিবেন না। নিজেকে শেষ করা মানেই মুক্তি নই।

নিজের জন্য একটু সময় নিন, আকাশপানে তাকিয়ে বড় করে শ্বাস  নিন তারপর তারপর মনের যত কষ্ট দুঃখ সবকিছু বিশাল আকাশের মাঝে উড়িয়ে দিন, বুকে হাত রেখে বলুন আপনি পারবেন আবার সব কিছু প্রথম থেকে শুরু করতে,আপনাকে পারতে হবে, আপনাকে সুখী হতেই হবে,দরকার হলে শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে,জীবণে একটা জিনিষের খুব প্রয়োজন আর তা হল সুখী হওয়া।

হাসতে শিখুন হাসাতে শিখুন, ভাল থাকতে শিখুন ভাল রাখতে শিখুন,নিজের জন্য ভাবুন অপরের জন্য ভাবুন,

#নিজেকে_শেষ_করা_কোন_জীবণ_না_জীবণ_হলো_সেটাই_যেটা_আবার_শূন্য_থেকে_শুরু_করতে_শেখায়

Sunday, December 6, 2015

এই শহরে

এই শহরে সপ্নের বেচাকেনা হয়
গ্রামের দুরন্ত চঞ্চলা মেয়েটির সপ্ন
এই শহরে এসে বেশ্যা হয়ে যাই

এই শহরে সপ্নের বেচাকেনা হয়
মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ছেলেটি ধনী হতে এসে
হতাশায় ঘিরে নেশার মাঝে বুদ হয়ে পড়ে রই

এই শহরে সপ্নের বেচাকেনা হয়
বড়লোক বাবার বখে যাওয়া ছেলেটি
হাজারো রঙিন বোতলের মাঝে সপ্ন দেখে

এই শহরে সপ্নের বেচাকেনা হয়
উচ্ছৃঙ্খল সেই বালক বালিকা গুলো
টাকা দিয়ে অনেক সপ্ন কিনে আনে

এই শহরে সপ্নখুনির বিচার নাই শুধু সপ্ন খুন হয়
চিৎকার করে খুনিরা বলে আমরা রই এই শহরে
যেই শহরে প্রতিদিন সপ্নের বেচাকেনা হয়